ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

মেরামত ছাড়াই তিন দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ৪৭ নম্বর বল্লবেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে মেরামত ছাড়াই টানা প্রায় তিন দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। সম্প্রতি ভবনের ছাদের একটি বিমের ঢালাই বিকট শব্দে ভেঙে নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন মুঠোফোনে জানান, আগের দিন শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ করে বিদ্যালয় ভবনের ছাদের ঢালাই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। তবে দিনের বেলায় এমন ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে কয়েক বছর টিনশেড ঘরে পাঠদান চললেও ১৯৯৪ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির কোনো ধরনের সংস্কার বা মেরামত কাজ হয়নি। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদ ও বিমের অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠাতে তারা আতঙ্কিত। অনেক দিন ধরেই ভবনের অবস্থা নাজুক, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান, যেন সরকারের দৃষ্টি পড়ে এবং দ্রুত সমাধান আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, কয়েক বছর ধরেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ঢালাই ভেঙে পড়ার ঘটনার রাতেই সহকারী শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, ঘটনাটি ক্লাস চলাকালীন না হওয়ায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষতি হতো, তাহলে দায়ভার তাকেই নিতে হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। আগে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তার স্পষ্ট মনে নেই। তবে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে আপাতত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ভবনে আর ক্লাস করানো সম্ভব নয় এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মেরামত ছাড়াই তিন দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ৪৭ নম্বর বল্লবেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে মেরামত ছাড়াই টানা প্রায় তিন দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। সম্প্রতি ভবনের ছাদের একটি বিমের ঢালাই বিকট শব্দে ভেঙে নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন মুঠোফোনে জানান, আগের দিন শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ করে বিদ্যালয় ভবনের ছাদের ঢালাই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে ওই সময় বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। তবে দিনের বেলায় এমন ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে কয়েক বছর টিনশেড ঘরে পাঠদান চললেও ১৯৯৪ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির কোনো ধরনের সংস্কার বা মেরামত কাজ হয়নি। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদ ও বিমের অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠাতে তারা আতঙ্কিত। অনেক দিন ধরেই ভবনের অবস্থা নাজুক, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান, যেন সরকারের দৃষ্টি পড়ে এবং দ্রুত সমাধান আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, কয়েক বছর ধরেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ঢালাই ভেঙে পড়ার ঘটনার রাতেই সহকারী শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, ঘটনাটি ক্লাস চলাকালীন না হওয়ায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষতি হতো, তাহলে দায়ভার তাকেই নিতে হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। আগে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তার স্পষ্ট মনে নেই। তবে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে আপাতত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ভবনে আর ক্লাস করানো সম্ভব নয় এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।