চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ – জনভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫ ২২৯ বার পড়া হয়েছে
বিপিসি ডেস্ক: কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক আট ঘণ্টা অবরোধের পর ফের সচল হয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজার স্টেশনে সড়ক অবরোধ করে রাখেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা প্রকল্পের চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা।
তাদের দাবি, অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন ও কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।
অবরোধে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহীন, জেলা প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (RRRC) কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার বলেন, যেসব শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১৫০ জনের জন্য ইতোমধ্যে একটি এনজিও চাকরির ব্যবস্থা করেছে। বাকিদের বিষয়েও উদ্যোগ চলছে। তবে সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ানো আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
বেলা ৩টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, “হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি আমরা শুনছি। আশা করি তারা সমঝোতায় আসবেন।
আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক মো. শামীম বিকেল সাড়ে ৪টায় জানান, জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আপাতত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। উখিয়া নাকি কক্সবাজারে পরবর্তী কর্মসূচি হবে, তা রাতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষক বোরহান উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংস্থার অধীনে আমরা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলাম। হঠাৎ করে বিনা কারণে আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় ভুগছি।
অবরোধের কারণে সকাল থেকে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে।
সিএনজি চালক নুরুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল থেকে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। যাত্রীরা নেমে হেঁটে চলে গেছে।
ট্রাক চালক রহিম উদ্দিন বলেন, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়েছি। তবে স্থানীয় শিক্ষকদের এই আন্দোলন ভুল নয়। দেশি শিক্ষকদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা শিক্ষকদের চাকরি দেওয়া অন্যায়।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ চলতি বছরের ২ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, তহবিল সংকটের কারণে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে।

বর্তমানে আশ্রয়শিবিরে ৪,৫০০টিরও বেশি লার্নিং সেন্টারে দুই লাখ ৩০ হাজার শিশু পড়াশোনা করে। কিন্তু তহবিল সংকটে এসব শিক্ষা কার্যক্রম ধুঁকছে।
ইউনিসেফ কক্সবাজার কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা এঞ্জেলা কার্নে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, শিক্ষাকেন্দ্রগুলো আপাতত জুনের শেষ নাগাদ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে চালু হবে কি-না, তা নির্ভর করছে নতুন তহবিল আসার ওপর।
এসময় তিনি আরও জানান, সীমিত প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ের গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ শিক্ষকরা (বাংলাদেশি নাগরিক) থাকবেন না। এতে এক হাজার ১৭৯ জন শিক্ষক চাকরি হারাবেন।
এই ঘোষণার পর থেকেই উখিয়ায় স্থানীয় শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি শিক্ষকদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা শিক্ষকদের রাখা হচ্ছে।
যদিও এঞ্জেলা কার্নে দাবি করেন, এখানে কোনো বৈষম্য নেই। তহবিল সংকটের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক এখনও কাজ করছেন।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, সীমিত শিক্ষাক্রমে আর পড়ানো হবে না ইংরেজি, বিজ্ঞান বা সামাজিক শিক্ষা। কেবল বার্মিজ ভাষা, গণিত, জীবন দক্ষতা ও সামাজিক মানসিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে। যেখানে মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিক্ষকরা থাকবেন।
এছাড়া শিশুদের নতুন পাঠ্যবইও দেওয়া হবে না। বরং আগের বই পুনর্ব্যবহার করা হবে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য।
অবশেষে দীর্ঘ আট ঘণ্টা অবরোধ শেষে সচল হলো কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক। তবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের অনিশ্চয়তা কাটেনি। দাবি আদায়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে এ আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।




















