রংপুরে রিক্রুটিং এজেন্সি না থাকায় দালালের খপ্পরে সর্বস্বান্ত প্রবাসপ্রত্যাশীরা
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
রংপুর বিভাগ-এ সরকার অনুমোদিত কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি না থাকায় বিদেশে যেতে আগ্রহীদের একটি বড় অংশ দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। নিরাপদ অভিবাসনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তদারকির অভাবকে পুঁজি করে প্রতারকরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার শিকার হয়ে অন্তত ৪০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। পুরো বিভাগজুড়ে আট জেলায় তিন শতাধিক মানুষ এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই সম্পদ বিক্রি কিংবা ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরে এসে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই পাওনাদারের চাপ সহ্য করতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এমনই এক ভুক্তভোগী রংপুর সদর উপজেলা-এর উত্তর পীরজাবাদ যুগীপাড়া গ্রামের মো. বকুল মিয়া। তার অভিযোগ, একই এলাকার এক ব্যক্তিকে ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা দিয়ে সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে তাকে ভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা হয়।
জানা যায়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া এক্সপোর্ট লিমিটেড নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে তাকে সৌদি আরব পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চকলেট কোম্পানিতে চাকরি না দিয়ে তাকে লোড-আনলোডের কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজটি করতে না পেরে অন্য এক এজেন্সির সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন তিনি।
দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকার করা হয় এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বকুল মিয়া। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার পাওনাদারদের চাপে বাড়িছাড়া হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বকুল মিয়ার মতো আরও অনেকেই একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যদিও অনেকেই স্থানীয় জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসে অভিযোগ করেছেন, তবুও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার মিলছে না বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
রংপুর জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের উপ-পরিচালক নেসারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগে কোনো অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট না থাকায় একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।




















