জামায়াত অপরাধ করেছে, একথা বলাও এখন অপরাধ: আনিস আলমগীর
- আপডেট সময় : ১২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে
কলামিস্ট ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর সম্প্রতি এক টকশোতে বলেন, জামাতকে যদি তারা সত্যিই ক্ষমা চান, তা হলে সেটি দলে বসে, সংগঠনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তে আনতে হবে — ব্যক্তিগত বিবৃতি দিয়ে নয়। তিনি যোগ করেন, জামায়াত অপরাধ করেছে, একথা বলাও এখন অপরাধজামাতের ইতিহাস ও ১৯৭১ সালের ঘটনাসমূহ নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র সামান্য কথাবার্তা বা ভঙ্গি দিয়ে বিষয় মিশ্রিত করা যাবে না; দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে দোষ স্বীকার ও ক্ষমা চাওয় দরকার।
জামাতকে “একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল” হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, ইতিহাস হয় দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে — ব্যক্তির ভাষ্য নয়। ১৯৭১ সালের ঘটনা—পাকিস্তানপক্ষ সমর্থন, রাজাকার/আলবদর/আলশামস সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যাসহ যে অভিযোগগুলো আছে—এসব মানবতাবিরোধী অভিযোগ দলীয়ভাবে স্বীকার করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যাদের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া হয়েছে এবং যাদের শাস্তি হয়েছে, সেগুলো ইতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে আছে—এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য।
শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষমা প্রস্তাব বা টকশো-স্তরের বিবৃতি দিয়ে কাজ হবে না; দলীয় রেজুলেশন, টেলিভিশন ও পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে ঘোষণা প্রয়োজন।
আলমগীর আরও বলেন, ১৯৭১ সালকে কেন্দ্র করে জামাতের নির্দিষ্ট অপরাধ—যেমন পাকিস্তানকে সাপোর্ট করা ও সম্মিলিত সহায়তায় গণহত্যায় অংশ নেয়া—এসব শাস্তিযোগ্য ও ক্ষমার দাবীর বিষয়। তিনি যুক্তি দেন, যদি দলের কেউ বা অনেকে এ ধরনের অপরাধে সহভাগী ছিল, তবে সেই অপরাধসমূহের জন্য দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া সামাজিক ও ঐতিহাসিক নিস্পত্তি অসম্পূর্ণ থাকবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক-পর্যায়ের বিচার ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তীকালে দেশের নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়াগুলো—কিছু নেতার বিরুদ্ধে অভিযুক্তি ও ফৌজদারি রায়/শাস্তি—এই বিতর্ককে পেছনে রেখেছে না। আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রাসঙ্গিকতা জনসমক্ষে জাতীয় স্মৃতিশক্তি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নও তোলে।
বাংলাদেশে ইতিহাস, ন্যায় ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন—এই তিনটিকে মিলিয়ে আনতে আলমগীরের দিকনির্দেশ হলো: দলীয় স্তরে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি ও ক্ষমা ছাড়া ঐতিহাসিক জবাবদিহি সম্পূর্ণ হবে না; আর তা না হলে সামাজিক আঘাত ও রাজনৈতিক উত্তাপ থেকেই যাবে।




















