বৃদ্ধের ২ আঙুল কেটেছে প্রতিপক্ষ, মামলা নেয়নি পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ৯৬ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে আঙুল বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষ। এঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা নেয়নি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। এতে পুলিশের গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি গত (২০ অক্টোবর) সোমবার সকালে উপজেলার সখিপুর থানার ডিএমখালি কাদির সরকার কান্দি এলাকায় ঘটেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মাদবর (৬৫) বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামি করে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার সুমন মাদবর (৪০), রুনা লায়লা (২৭), বেলা মাদবর(৬০), জিন্না মাদবর(৩৩), মনির মাদবর(৪২), ইসমাইল মাদবর(২৮), লাবনি আক্তার(২৭)।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হোসেন মাদবর ও সুমন মাদবরের সাথে বিরোধ চলছিলো। এনিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। গত সোমবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমির ফসল নিয়ে আনোয়ার মাদবরের সাথে সুমন মাদবরের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনোয়ার মাদবরকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে তার ডান হাতের দুটি আঙুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্য আঙুলগুলোতেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পিঠে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা আনোয়ার মাদবরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অবস্থার অবনতি হলে তাকে ও-ই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ রেখে তাদের চলে যেতে বলেন। পরদিন থানায় গেলে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রিপন নানান অজুহাতে তাদের বিদায় করে দেন। শুক্রবার মামলা নিবে বলে রাত ১০ টা পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখে মামলা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এস আই রিপন। সর্বশেষ শনিবার রাতেও মামলাটি নথিভূক্ত করেনি সখিপুর থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগীর আনোয়ার মাদবরের স্ত্রী বেলাতুন নেসা বলেন, “সুমন মাদবরের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ। এর আগেও আমাদের একাধিকবার মারধর করেছে। ওইদিন আমার স্বামীকে একা পেয়ে কুপিয়ে দুটি আঙুল বিছিন্ন করছে। পিঠে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। আমরা ঘটনার পরপরই থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। পাঁচ দিন কেটে গেলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আসামি পক্ষের লোকজন আমাদের হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। পুলিশকে জানিয়েছি কিন্তু পুলিশ আমাদের থানায় নিয়ে বসিয়ে রাখলেও মামলাটি নথিভূক্ত করেনি। আমি ন্যায়বিচার চাই।
আনোয়ার মাদবরের ভাই আজহারুল মাদবর বলেন, “আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্য করে গলায় কোপ দেয়। কোপ ফেরাতে গিয়ে তার হাতের আঙুল বিছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পরে আমরা থানায় গেলে পুলিশ সাদা কাগজে লিখিত রেখে আমাদের চিকিৎসা নিতে বলে। আমরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে গেলে অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। আজ ৫ দিন ধরে থানায় মামলার জন্য ঘুরছি পুলিশ মামলা না নিয়ে আমাদের সাথে টালবাহানা করছে। আমি ন্যায় বিচারক চাই।”
আনোয়ার মাদবরের প্রতিবেশী সিরাজ মাদবর বলেন, “সুমন মূলত সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে আমাদের এলাকায় বহু অভিযোগ আছে। কেউ বাড়ী করতে চাইলে তাকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে সে। তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। কেউ থানায় গেলে পুলিশকে টাকাপয়সা দিয়ে মামলা ধামাচাপা দিয়ে উল্টো পুলিশ দিয়ে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করে। কেউ তার ভয়ে কথা বলতে পারে না। ওইদিন যেভাবে আনোয়ার মাদবরকে কুপিয়েছে স্থানীয়রা এগিয়ে না আসলে তাকে মেরেই ফেলতো। এভাবে প্রকাশ্যে হামলার পরও মামলা না নেওয়া আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট করছে। এটি পুলিশের চরম গাফিলতি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানুষ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকবে।”
এদিকে ছুটির অযুহাত দেখিয়ে সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ আহমেদ এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হয় নি।
সখিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এই আই রিপন বলেন,” অভিযোগের কপি আমার কাছে আছে। বাদীপক্ষের সাথে আসামিদের মিমাংসার চেষ্টা চলছে। এধরণের ঘটনায় পুলিশ মিমাংসার কথা পুলিশ বলতে পারে কি না এমন প্রশ্নে এস আই রিপন কথা ঘুরিয়ে বলেন,ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনি থানায় এসে আমার সাথে দেখা কইরেন।”
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (ভেদরগঞ্জ) সার্কেল সৌম্য শেখর পাল বলেন, “এইধরনের ঘটনায় অবশ্যই মামলা হবে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




















