তরুণদের জোয়ারে নেপালের ক্ষমতায় বালেন্দ্র শাহ
- আপডেট সময় : ০৬:২১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বালেন্দ্র শাহ নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) শপথের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত বছর জেন-জিদের নেতৃত্বে সরকার পতনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের মার্চের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ভূমিধস বিজয় অর্জন করে।
শপথ গ্রহণের আগে ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে নেপালের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন র্যাপার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ‘বালেন’ নামেই তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পান।
রাজনৈতিক জীবনে তার উত্থান ঘটে রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই তিনি তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তাকে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান এনে দেয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি হঠাৎ করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে তরুণরা এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার সরকারের পতন ঘটে। এই আন্দোলন মূলত দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং দীর্ঘদিনের এলিট শ্রেণির শাসনের বিরুদ্ধে ছিল।
এই পটভূমিতেই সাম্প্রতিক নির্বাচনে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে ভোটাররা নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখেন, যার ফলস্বরূপ বালেন্দ্র শাহের উত্থান।
১৯৯০ সালে কাঠমান্ডু-তে জন্ম নেওয়া বালেন্দ্র শাহ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে ভারতের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সংগীতজীবনে তিনি সামাজিক বৈষম্য, দুর্নীতি ও জনজীবনের নানা সমস্যা তুলে ধরতেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বড় দলগুলোর প্রার্থীদের হারিয়ে তিনি বিজয়ী হন। ৬১ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তার এই জয় ছিল নেপালের রাজনীতিতে একটি বড় বার্তা—পরিবর্তনের পক্ষে তরুণদের শক্ত অবস্থান।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহ এখন দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তরুণদের প্রত্যাশা, তার নেতৃত্বে নেপাল একটি নতুন পথে এগিয়ে যাবে।


























