ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাইয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটের ব্যাগ ও ড্রেস বিতরণ শুরু ঢাকা জেলা প্রশাসক পদে ফরিদা খানমের নিয়োগ প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, নগ্ন ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজি: গ্রেপ্তার ১ বাস-লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি যাত্রী কল্যাণ সমিতির সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও অনলাইনে ছড়ানো নিয়ে তীব্র সমালোচনা পদ্মা নদীতে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ, ফাঁড়ি ইনচার্জসহ ৫ জন আহত ৩ মে থেকে ধান-চাল-গম সংগ্রহ শুরু করবে সরকার সৌদি আরবে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু নালিতাবাড়ীতে নববধূর আত্মহত্যা, স্বামীকে আটক মুন্সীগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত যুবকের কবর পাহারা দিচ্ছে পরিবার

সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও অনলাইনে ছড়ানো নিয়ে তীব্র সমালোচনা

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন এলাকায় এক তরুণ-তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের প্রবণতা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক বলেও জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জনপরিসরে ব্যক্তিগত মুহূর্ত অনুমতি ছাড়া ধারণ ও প্রচার করা কতটা নৈতিক ও আইনসঙ্গত—এ প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু এই ঘটনাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নারীদের অপ্রস্তুত বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করে ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশনসহ প্রকাশ করার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কনটেন্ট লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আয়ও করছে কিছু পেজ ও প্রোফাইল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আচরণ ‘ভয়্যারিজম’ নামে পরিচিত এক ধরনের মানসিক বিকৃতি, যেখানে অন্যের অজান্তে ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখা বা ধারণ করে তা উপভোগ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ক্লিকবেইট কৌশল ব্যবহার করে এসব কনটেন্টে ইন্টারঅ্যাকশন বাড়িয়ে আর্থিক লাভ করা হচ্ছে, যা ভুক্তভোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মেট্রোরেল, পার্ক, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটনস্থলে থাকা মানুষদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ভিডিওতে বিকৃত বা ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন যুক্ত করে ভিউ বাড়ানো হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ, যৌন হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সচেতনতার অভাব ও অভিযোগ না করায় এসব অপরাধ অনেক সময় শাস্তির আওতায় আসে না।

পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুক্তভোগীদের বড় অংশই সামাজিক লজ্জার কারণে অভিযোগ করেন না। ফলে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে বারবার একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধ শিক্ষা এবং দ্রুত কনটেন্ট অপসারণের ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমানো সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও অনলাইনে ছড়ানো নিয়ে তীব্র সমালোচনা

আপডেট সময় : ০১:৫৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন এলাকায় এক তরুণ-তরুণীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের প্রবণতা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক বলেও জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জনপরিসরে ব্যক্তিগত মুহূর্ত অনুমতি ছাড়া ধারণ ও প্রচার করা কতটা নৈতিক ও আইনসঙ্গত—এ প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু এই ঘটনাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নারীদের অপ্রস্তুত বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করে ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশনসহ প্রকাশ করার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কনটেন্ট লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আয়ও করছে কিছু পেজ ও প্রোফাইল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আচরণ ‘ভয়্যারিজম’ নামে পরিচিত এক ধরনের মানসিক বিকৃতি, যেখানে অন্যের অজান্তে ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখা বা ধারণ করে তা উপভোগ করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ক্লিকবেইট কৌশল ব্যবহার করে এসব কনটেন্টে ইন্টারঅ্যাকশন বাড়িয়ে আর্থিক লাভ করা হচ্ছে, যা ভুক্তভোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মেট্রোরেল, পার্ক, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটনস্থলে থাকা মানুষদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ভিডিওতে বিকৃত বা ইঙ্গিতপূর্ণ ক্যাপশন যুক্ত করে ভিউ বাড়ানো হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ, যৌন হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সচেতনতার অভাব ও অভিযোগ না করায় এসব অপরাধ অনেক সময় শাস্তির আওতায় আসে না।

পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুক্তভোগীদের বড় অংশই সামাজিক লজ্জার কারণে অভিযোগ করেন না। ফলে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে বারবার একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধ শিক্ষা এবং দ্রুত কনটেন্ট অপসারণের ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এ ধরনের প্রবণতা কমানো সম্ভব।