ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

শত শত বাংলাদেশিকে ভারতে পাচার করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করত এই ‘গুরু মাতা’

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ৯০ বার পড়া হয়েছে

জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে গত ৩০ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন এক বাংলাদেশি রূপান্তরকামী। ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে পাচারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

অভিযুক্তের নাম বাবু আয়ান খান, ওরফে জ্যোতি, ওরফে ‘গুরু মাতা’। মুম্বাই পুলিশের দাবি, জ্যোতির সাহায্যে পাচার হয়ে ভারতে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত আয়ান খান ওরফে জ্যোতি মুম্বাইয়ের ট্রান্সজেন্ডারদের কাছে ‘গুরু মাতা’ নামে পরিচিত। তিনি সেখানে একজন আধ্যাত্মিক নারী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। বলিউডি শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ৩০০ অনুগামীও ছড়িয়ে আছে।

মুম্বাই পুলিশ জানায়, এই জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করার জন্য একটি জাল জন্ম সনদ, আধার কার্ড (পরিচয়পত্র) এবং প্যান কার্ড তৈরি করিয়েছিলেন।

তবে, সম্প্রতি পুলিশ যখন তার নথিপত্র যাচাই করে, তখন সেগুলো জাল প্রমাণিত হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ‘গুরু মাতা’র পাচারকারী নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের প্রবেশের সুযোগ করে দিত। ভারতে ঢুকে পড়ার পর সেই বাংলাদেশিদের কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় রাখা হত। সেখানে তাদের জন্ম সনদ এবং স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট তৈরি করা হত। এরপর তাদের মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হত এবং শিবাজি নগরে রাখা হত। প্রতি ঘরে ৩-৪ জন বাংলাদেশি থাকত এবং তারা ‘গুরু মাতা’কে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাড়া দিত।

তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো- পাচার করে আনা বাংলাদেশিদের অনেককেই তিনি পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেছিলেন।

মুম্বাই পুলিশ আরও জানিয়েছে, জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (MHADA) অধীনে নিবন্ধিত ফ্ল্যাট দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, তিনি ২০০টিরও বেশি বাড়ি দখল করেন এবং সেগুলো ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শত শত বাংলাদেশিকে ভারতে পাচার করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করত এই ‘গুরু মাতা’

আপডেট সময় : ০৫:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে গত ৩০ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন এক বাংলাদেশি রূপান্তরকামী। ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে পাচারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

অভিযুক্তের নাম বাবু আয়ান খান, ওরফে জ্যোতি, ওরফে ‘গুরু মাতা’। মুম্বাই পুলিশের দাবি, জ্যোতির সাহায্যে পাচার হয়ে ভারতে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত আয়ান খান ওরফে জ্যোতি মুম্বাইয়ের ট্রান্সজেন্ডারদের কাছে ‘গুরু মাতা’ নামে পরিচিত। তিনি সেখানে একজন আধ্যাত্মিক নারী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। বলিউডি শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ৩০০ অনুগামীও ছড়িয়ে আছে।

মুম্বাই পুলিশ জানায়, এই জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করার জন্য একটি জাল জন্ম সনদ, আধার কার্ড (পরিচয়পত্র) এবং প্যান কার্ড তৈরি করিয়েছিলেন।

তবে, সম্প্রতি পুলিশ যখন তার নথিপত্র যাচাই করে, তখন সেগুলো জাল প্রমাণিত হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ‘গুরু মাতা’র পাচারকারী নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের প্রবেশের সুযোগ করে দিত। ভারতে ঢুকে পড়ার পর সেই বাংলাদেশিদের কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় রাখা হত। সেখানে তাদের জন্ম সনদ এবং স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট তৈরি করা হত। এরপর তাদের মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হত এবং শিবাজি নগরে রাখা হত। প্রতি ঘরে ৩-৪ জন বাংলাদেশি থাকত এবং তারা ‘গুরু মাতা’কে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক ভাড়া দিত।

তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো- পাচার করে আনা বাংলাদেশিদের অনেককেই তিনি পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেছিলেন।

মুম্বাই পুলিশ আরও জানিয়েছে, জ্যোতি ওরফে ‘গুরু মাতা’ মহারাষ্ট্র হাউজিং অ্যান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (MHADA) অধীনে নিবন্ধিত ফ্ল্যাট দখলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, তিনি ২০০টিরও বেশি বাড়ি দখল করেন এবং সেগুলো ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন।