ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

নাগেশ্বরীতে কেঁচো সার প্রয়োগ করে পেঁপে ও কলা চাষ দারিদ্রতাকে জয় করে সাবলম্বী কৃষক

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

মিশ্র কৃষি খামার করে বাজিমাত করেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী
পৌরসভার চামটারপাড় এলাকার কৃষক শামছুল হক এবং তার দুই ছেলে মামুন
মিয়া ও ওমর ফারম্নক। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২ একর জমি লিজ নিয়ে
সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষ করেছেন কলা, পেঁপে, লাউ, মিষ্টি, কুমড়া,
মরিচ, শীতকালীন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন শাকসবজি। আর এই কৃষি খামারে
রাসায়নিক সারের পরিবর্তে তারা ব্যবহার করছেন নিজের কেঁচো খামারে তৈরি
ভার্মি কম্পোস্ট। এতে করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো ফলন পেয়ে
লাভবান হচ্ছেন তারা। আর এভাবেই দারিদ্রতাকে জয় করে এখন ভাগ্য ফিরেছে
তাদের। কৃষক শামছুল আলম জানান, কৃষি খামার করে পেঁপে বাগান থেকে
প্রতিনিয়ত ৮ থেকে ১০ মণ পর্যšত্ম পেঁপে বিক্রি করছেন তারা। এসব পেঁপে
মণ প্রতি বিক্রি করেন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যšত্ম এবং পাকা পেঁপে বিক্রি
করেন ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যšত্ম আর কলা বিক্রি করেন ৩০০
থেকে ৪০০ টাকা ছড়ি। আর এসব পেঁপে ও কলা বাগান থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন
বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা। শামছুল আলমের ছেলে মামুন মিয়া জানান কম
খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ধানের পরিবর্তে কলা ও পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি চাষ
করেন তারা। তিনি জানান নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য তারা খেতে কেঁচো
খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করেন। এতে
করে ফলন ভালো হয়ে অধিক লাভবান হচ্ছেন তারা।
পেঁপে কিনতে আসা পাইকার নুরনবী মিয়া ও উকিল আমিন জানান, তারা
সপ্তহে ২-৩ দিন করে পেঁপে বাগান থেকে ৬-৭ মণ করে পেঁপে তুলে নিয়ে
গিয়ে আরতে দিয়ে আসেন। এভাবে পাইকারি দরে পেঁপে কিনে নিয়ে লাভবান
হচ্ছেন তিনি। তিনি জানান রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিক
উপায়ে কেঁচো সার প্রয়োগের ফলে ওই কৃষকের ফলনগুলো ভালো। তাই বাজারে
চাহিদাও বেশি। ফলে তিনি ছাড়াও আরও অনেক পাইকার এখান থেকে পেঁপে
কিনে নিয়ে যান।
স্থানীয় নুর জামাল মিয়া ও আবুল হোসেন জানান, শামছুল আলমের পরিবার
দীর্ঘদিন ধরে এসব বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফলজ বাগান করে স্বাবলম্বী
হয়েছেন। তাদের দেখে দেখে উৎসাহী হচ্ছেন অনেকই। তবে দেশের উন্নয়নে
প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের পাশে থাকলে কৃষিখাত আরও সমৃদ্ধ হবে
বলে মনে করেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কৃষক
শামছুল আলমকে কেঁচো খামার করে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরিতে পরামর্শ ও
সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। যে কোনো কৃষক কৃষি উদ্যোক্তা হতে চাইলে
তাদেরকেও সহযোগিতা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নাগেশ্বরীতে কেঁচো সার প্রয়োগ করে পেঁপে ও কলা চাষ দারিদ্রতাকে জয় করে সাবলম্বী কৃষক

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

মিশ্র কৃষি খামার করে বাজিমাত করেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী
পৌরসভার চামটারপাড় এলাকার কৃষক শামছুল হক এবং তার দুই ছেলে মামুন
মিয়া ও ওমর ফারম্নক। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২ একর জমি লিজ নিয়ে
সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষ করেছেন কলা, পেঁপে, লাউ, মিষ্টি, কুমড়া,
মরিচ, শীতকালীন পেঁয়াজসহ বিভিন্ন শাকসবজি। আর এই কৃষি খামারে
রাসায়নিক সারের পরিবর্তে তারা ব্যবহার করছেন নিজের কেঁচো খামারে তৈরি
ভার্মি কম্পোস্ট। এতে করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো ফলন পেয়ে
লাভবান হচ্ছেন তারা। আর এভাবেই দারিদ্রতাকে জয় করে এখন ভাগ্য ফিরেছে
তাদের। কৃষক শামছুল আলম জানান, কৃষি খামার করে পেঁপে বাগান থেকে
প্রতিনিয়ত ৮ থেকে ১০ মণ পর্যšত্ম পেঁপে বিক্রি করছেন তারা। এসব পেঁপে
মণ প্রতি বিক্রি করেন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যšত্ম এবং পাকা পেঁপে বিক্রি
করেন ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যšত্ম আর কলা বিক্রি করেন ৩০০
থেকে ৪০০ টাকা ছড়ি। আর এসব পেঁপে ও কলা বাগান থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন
বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা। শামছুল আলমের ছেলে মামুন মিয়া জানান কম
খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ধানের পরিবর্তে কলা ও পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজি চাষ
করেন তারা। তিনি জানান নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য তারা খেতে কেঁচো
খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করেন। এতে
করে ফলন ভালো হয়ে অধিক লাভবান হচ্ছেন তারা।
পেঁপে কিনতে আসা পাইকার নুরনবী মিয়া ও উকিল আমিন জানান, তারা
সপ্তহে ২-৩ দিন করে পেঁপে বাগান থেকে ৬-৭ মণ করে পেঁপে তুলে নিয়ে
গিয়ে আরতে দিয়ে আসেন। এভাবে পাইকারি দরে পেঁপে কিনে নিয়ে লাভবান
হচ্ছেন তিনি। তিনি জানান রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিক
উপায়ে কেঁচো সার প্রয়োগের ফলে ওই কৃষকের ফলনগুলো ভালো। তাই বাজারে
চাহিদাও বেশি। ফলে তিনি ছাড়াও আরও অনেক পাইকার এখান থেকে পেঁপে
কিনে নিয়ে যান।
স্থানীয় নুর জামাল মিয়া ও আবুল হোসেন জানান, শামছুল আলমের পরিবার
দীর্ঘদিন ধরে এসব বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফলজ বাগান করে স্বাবলম্বী
হয়েছেন। তাদের দেখে দেখে উৎসাহী হচ্ছেন অনেকই। তবে দেশের উন্নয়নে
প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের পাশে থাকলে কৃষিখাত আরও সমৃদ্ধ হবে
বলে মনে করেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কৃষক
শামছুল আলমকে কেঁচো খামার করে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরিতে পরামর্শ ও
সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। যে কোনো কৃষক কৃষি উদ্যোক্তা হতে চাইলে
তাদেরকেও সহযোগিতা করা হবে।