বরিশালে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের আতঙ্ক বাড়ছে
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বরিশালে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় এসব অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। রাত বা দিনের যে কোনো সময়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার স্থানীয়দের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে, শহরের সড়ক ও নৌপথে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ও সরবরাহের ঘটনা তীব্র হচ্ছে।
চলতি মাসের ৫ তারিখে নগরের বিসিক এলাকার আকবর নামের এক ব্যক্তির কাছে মেরামতের জন্য দেওয়া আলমারির ভেতর থেকে সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পরে গুলিগুলো সংগ্রহ করে এবং জাকির হোসেনকে আটক করে। এছাড়া ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল মহানগরীর রিফিউজি কলোনীতে দুই পক্ষের আধিপত্য প্রদর্শনের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, শহরে দুইটি প্রভাবশালী পক্ষ মাদক ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট চালাচ্ছে এবং নিজেদের রক্ষার জন্য মাঝে মাঝে অস্ত্র মহড়া দিয়ে বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে রাখে। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা কার্যকর হতে পারছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক ও নৌপথে অন্তত দশটি জায়গায় অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। কীর্তনখোলা নদীর তীর লাগোয়া রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও পলাশপুর এলাকায় এসব অস্ত্র মজুত থাকে। মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, রাতের শেষ দিকে লবণবোঝাই ও মাছের ট্রলারে পিস্তল, দা ও মাদক আনা হয়, যা জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “২৪/৫ আগস্টের পর সারা দেশের থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়, কিন্তু এবারের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সেই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না, যা নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. আব্দুল হান্নান জানান, “মেট্রোপলিটন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বরিশালের কোনো থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেনি। মহানগরীর চার থানা এলাকার যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আমরা তৎপর রয়েছি।”
এ অবস্থায় স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা আরও বাড়বে।




















