ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বক্তব্য অস্বীকারে ফোন কেটে দিলেন জামায়াত নেতা
- আপডেট সময় : ০৪:১৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)কে মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যা#খানা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান। তিনি দাবি করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকসুর সেই অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জনসভায় শামীম আহসান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের আগে এই প্রতিষ্ঠান নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল বলে তাদের দাবি। তার ভাষায়, “যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল—সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি উৎখাত করতে সক্ষম হবে।
নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের নাজাতের জন্য। আগামী দিনে যেন ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে ‘সিসা ঢালা প্রাচীরের মতো’ ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় আগতদের উদ্দেশে শামীম আহসান আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তা ছাত্রশিবিরের সমর্থনের ফল। তার দাবি, ডাকসুতে যদি ইসলামী ছাত্রশিবির ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামীও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারবে।
তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা যায়। ডাকসু সম্পর্কে করা মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামীম আহসান বলেন, তিনি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সমস্যা থাকার কথা বলেছেন এবং সেগুলোর সমাধান করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বেশ্যাখানা ছিল’—এমন বক্তব্য দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি “আমি মোটরসাইকেলে আছি” বলে সংযোগটি কেটে দেন।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




















