নির্বাচনের পর বগুড়ায় টানা তিন খুন, আতঙ্কে জনজীবন
- আপডেট সময় : ০৪:২৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বগুড়া। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কে কাঁপছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলছেন অনেকে। যদিও পুলিশ বলছে, হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে, তবে এখনো তিন ঘটনার কোনোটিতেই কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে দুটি ঘটনাকে ‘ক্লুলেস’ বলছে পুলিশ।
জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের দক্ষিণ বৃন্দাবন পাড়া এলাকায় আলিফ (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। প্রায় পাঁচ মাস ধরে বাবার সঙ্গে গ্যারেজে কাজ শিখছিল সে। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাবা রিপন মিয়ার সঙ্গে আলিফের কথা হয়। ঘণ্টাখানেক পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন রিপন মিয়া। তিনি বলেন, তার ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। তবে গ্যারেজ ব্যবসা নিয়ে তার ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরদিন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সামনে ফাহিম নামে এক তরুণের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভোটের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একই এলাকার তনয় নামে এক যুবক পিছন থেকে ফাহিমকে আঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দুপুরে তার মৃত্যু হয়। ফাহিমের স্বজনদের দাবি, হত্যার আগে তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং থানায় জিডিও করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তনয়সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে, তবে এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।
সবশেষ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ি এলাকায় ট্রাক পরিবহন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। তবে রবিবার সকালে বাড়ির সামনে ঘাসের জমিতে তার গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। গাবতলী থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ও টহল ব্যবস্থা ছিল। নির্বাচন শেষে নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল হওয়ায় অপরাধীরা সুযোগ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে টানা তিন হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক কালাম আজাদ বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, ফাহিম হত্যার মোটিভ অনেকটাই স্পষ্ট—রাগ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। তবে বাকি দুটি ঘটনা এখনো রহস্যাবৃত। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




















