ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

নওগাঁয় টিসিবির পণ্যে স্বস্তি, তবে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

রমজান মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সারা দেশের মতো নওগাঁতেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হয়ে ওঠে কঠিন। এ পরিস্থিতিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত।

সহনীয় মূল্যে টিসিবির পাঁচ ধরনের নিত্যপণ্য পেয়ে খেটে খাওয়া নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এসব পণ্য পেতে গিয়ে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় “আগে এলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে পণ্য নিতে ভোররাত থেকেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে।

রাণীনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে টিসিবির ট্রাকের অপেক্ষায় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ ইট রেখে সিরিয়াল দিচ্ছেন, কেউ আবার ট্রাক আসার খবর পেয়ে দৌড়ে লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ ভোরে, কেউ সকাল ছয়টা, আবার কেউ আটটা কিংবা নয়টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তবুও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার আশায় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন শ্রমজীবী মানুষ।

খট্টেশ্বর গ্রামের ভ্যানচালক লসির উদ্দিন বলেন, ভ্যান চালানো বন্ধ রেখে সূর্য ওঠার আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রমজান এলেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় টিসিবির পণ্য নিতে এসেছেন। বরাদ্দ বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতেন বলে মত তার।

সিম্বা গ্রামের দিনমজুর রহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর রোজায় টিসিবির পণ্য বিক্রির আগে সবার হাতে সিরিয়াল অনুযায়ী স্লিপ দেওয়া হতো। এবার তা না থাকায় লাইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। নিয়ম মেনে পণ্য বিতরণ করলে হয়রানি কমতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাণীনগর উপজেলার টিসিবি ডিলার আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, প্রতিদিন বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পণ্য আনতে হয়। অনেক সময় ট্রাক পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সকাল ১০টায় বিক্রি শুরু করা সম্ভব হয় না। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় চাপ বেড়ে যায়। গতবারের মতো একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি পয়েন্টে বিক্রি করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতো। লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের সিরিয়াল বজায় রেখে পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, টিসিবির মাধ্যমে জেলার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন। ৮০ টাকা কেজি দরে চিনি, ৭০ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল, ১১৫ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ৬০ টাকা কেজি দরে ছোলা এবং ৮০ টাকা দরে আধা কেজি খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক থেকে প্রায় ৪০০ জন মানুষ এসব পণ্য পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, চাহিদার তুলনায় পণ্য কম হওয়ায় ভোক্তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে। জেলাজুড়ে নিয়ম মেনে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য ডিলারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁয় টিসিবির পণ্যে স্বস্তি, তবে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। সারা দেশের মতো নওগাঁতেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হয়ে ওঠে কঠিন। এ পরিস্থিতিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত।

সহনীয় মূল্যে টিসিবির পাঁচ ধরনের নিত্যপণ্য পেয়ে খেটে খাওয়া নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এসব পণ্য পেতে গিয়ে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় “আগে এলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে পণ্য নিতে ভোররাত থেকেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে।

রাণীনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে টিসিবির ট্রাকের অপেক্ষায় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ ইট রেখে সিরিয়াল দিচ্ছেন, কেউ আবার ট্রাক আসার খবর পেয়ে দৌড়ে লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ ভোরে, কেউ সকাল ছয়টা, আবার কেউ আটটা কিংবা নয়টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তবুও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার আশায় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন শ্রমজীবী মানুষ।

খট্টেশ্বর গ্রামের ভ্যানচালক লসির উদ্দিন বলেন, ভ্যান চালানো বন্ধ রেখে সূর্য ওঠার আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রমজান এলেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় টিসিবির পণ্য নিতে এসেছেন। বরাদ্দ বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতেন বলে মত তার।

সিম্বা গ্রামের দিনমজুর রহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর রোজায় টিসিবির পণ্য বিক্রির আগে সবার হাতে সিরিয়াল অনুযায়ী স্লিপ দেওয়া হতো। এবার তা না থাকায় লাইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। নিয়ম মেনে পণ্য বিতরণ করলে হয়রানি কমতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাণীনগর উপজেলার টিসিবি ডিলার আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, প্রতিদিন বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পণ্য আনতে হয়। অনেক সময় ট্রাক পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সকাল ১০টায় বিক্রি শুরু করা সম্ভব হয় না। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় চাপ বেড়ে যায়। গতবারের মতো একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি পয়েন্টে বিক্রি করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতো। লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের সিরিয়াল বজায় রেখে পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, টিসিবির মাধ্যমে জেলার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন। ৮০ টাকা কেজি দরে চিনি, ৭০ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল, ১১৫ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ৬০ টাকা কেজি দরে ছোলা এবং ৮০ টাকা দরে আধা কেজি খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক থেকে প্রায় ৪০০ জন মানুষ এসব পণ্য পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, চাহিদার তুলনায় পণ্য কম হওয়ায় ভোক্তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে। জেলাজুড়ে নিয়ম মেনে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য ডিলারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।