ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শাহজালালে এক মাসে বাতিল ৮৫৮টি ফ্লাইট

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট, একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ গত এক মাসে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্যফেরত মোট ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই সময়ে সীমিত পরিসরে ১,১৯০টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান—এই দেশগুলোর আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া প্রবাসী কর্মী, ট্রানজিট যাত্রী এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের ওপর।

তবে জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী কিছু ফ্লাইট ধাপে ধাপে চালু রাখা হয়। বিশেষ করে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিছু রুটে ফ্লাইট চলাচল বাড়তে শুরু করে। এ সময় পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর বড় অংশ ছিল মাস্কাট, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর এবং দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহগামী।

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, মার্চজুড়ে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী রুটে। ২৪, ২৬ ও ৩০ মার্চ—এই তিন দিনে প্রতিদিন ৫০টি করে ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে, যা পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্চের দ্বিতীয়ার্ধে দুবাইগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যেদিন ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর মার্চজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে। সব মিলিয়ে এক মাসে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৮টিতে।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (৩০ মার্চ) আরও ১৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ), গালফ এয়ার (বাহরাইন), কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও জাজিরা এয়ারওয়েজের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত।

ফ্লাইট বাতিল ও শিডিউল পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বহু যাত্রী বাতিল, বিলম্ব ও পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইটের কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানবন্দরে এসে দীর্ঘ অপেক্ষা, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল এবং অতিরিক্ত খরচ—সব মিলিয়ে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্লাইট অপারেশন, যাত্রী ব্যবস্থাপনা এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট আপডেট জেনে তবেই বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে ফ্লাইট অপারেশনও স্বাভাবিক হবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শাহজালালে এক মাসে বাতিল ৮৫৮টি ফ্লাইট

আপডেট সময় : ১২:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট, একাধিক দেশের আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ গত এক মাসে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্যফেরত মোট ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একই সময়ে সীমিত পরিসরে ১,১৯০টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান—এই দেশগুলোর আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া প্রবাসী কর্মী, ট্রানজিট যাত্রী এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের ওপর।

তবে জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী কিছু ফ্লাইট ধাপে ধাপে চালু রাখা হয়। বিশেষ করে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিছু রুটে ফ্লাইট চলাচল বাড়তে শুরু করে। এ সময় পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর বড় অংশ ছিল মাস্কাট, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর এবং দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহগামী।

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, মার্চজুড়ে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী রুটে। ২৪, ২৬ ও ৩০ মার্চ—এই তিন দিনে প্রতিদিন ৫০টি করে ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে, যা পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্চের দ্বিতীয়ার্ধে দুবাইগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যেদিন ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর মার্চজুড়ে প্রায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে। সব মিলিয়ে এক মাসে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৮টিতে।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (৩০ মার্চ) আরও ১৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ), গালফ এয়ার (বাহরাইন), কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও জাজিরা এয়ারওয়েজের ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত।

ফ্লাইট বাতিল ও শিডিউল পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বহু যাত্রী বাতিল, বিলম্ব ও পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইটের কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানবন্দরে এসে দীর্ঘ অপেক্ষা, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল এবং অতিরিক্ত খরচ—সব মিলিয়ে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্লাইট অপারেশন, যাত্রী ব্যবস্থাপনা এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট আপডেট জেনে তবেই বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে ফ্লাইট অপারেশনও স্বাভাবিক হবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।