ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দ ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলা পত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ওই এলাকায় একাধিক জাহাজে হামলা এবং দুটি জাহাজ জব্দের অভিযোগ উঠেছে ইরান-এর বিরুদ্ধে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ‘এমএসসি ফ্রানচেসকা’ এবং ‘এপামিনোন্দাস’ নামের দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজ দুটি অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রম করছিল এবং একাধিকবার নৌপরিবহন সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করেছে। পাশাপাশি নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপির অভিযোগও আনা হয়েছে।

বুধবার আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত সব জাহাজের গতিবিধি তারা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, “নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়।

এর আগে রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘তুসকা’ নামের একটি জাহাজ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন নৌবাহিনী সেটি জব্দ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি তাদের নৌ অবরোধ কার্যক্রমের অংশ।

তবে ইরান এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং “সশস্ত্র জলদস্যুতা”র শামিল। পাশাপাশি তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই জাহাজ জব্দ ও হামলার অভিযোগের ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দ ও হামলার অভিযোগে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ওই এলাকায় একাধিক জাহাজে হামলা এবং দুটি জাহাজ জব্দের অভিযোগ উঠেছে ইরান-এর বিরুদ্ধে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ‘এমএসসি ফ্রানচেসকা’ এবং ‘এপামিনোন্দাস’ নামের দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। তাদের অভিযোগ, জাহাজ দুটি অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রম করছিল এবং একাধিকবার নৌপরিবহন সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করেছে। পাশাপাশি নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপির অভিযোগও আনা হয়েছে।

বুধবার আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত সব জাহাজের গতিবিধি তারা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, “নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়।

এর আগে রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘তুসকা’ নামের একটি জাহাজ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন নৌবাহিনী সেটি জব্দ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি তাদের নৌ অবরোধ কার্যক্রমের অংশ।

তবে ইরান এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং “সশস্ত্র জলদস্যুতা”র শামিল। পাশাপাশি তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই জাহাজ জব্দ ও হামলার অভিযোগের ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।