ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

এআই ব্যবহার করে মাকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়ে নিজের মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছর বয়সী ট্রিস্টান রবার্ট গত বছরের অক্টোবর মাসে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে হত্যা করে। বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট-এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, ট্রিস্টানকে অন্তত ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় ট্রিস্টান ডিপসিক নামের একটি এআই সার্চ প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়েছিল। সে এআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল, হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি বেশি কার্যকর। প্রথমে এআই উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, পরে নিজেকে একজন অপরাধবিষয়ক লেখক পরিচয় দিলে ট্রিস্টানকে হাতুড়ি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা এবং হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস আদালতে বলেন, হত্যাকাণ্ডটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল। ট্রিস্টান প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেন এবং পুরো ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও একটি ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ট্রিস্টান অনলাইনে একাধিকবার নারীবিদ্বেষী পোস্ট করেছিল এবং নিজের মানসিক সমস্যার জন্য মাকেই দায়ী করত। ঘটনার রাতে প্রথমে নিজ বাড়িতেই তার মায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। রাত প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্যাতনের পর চিকিৎসার কথা বলে মাকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে গিয়ে স্লেজহ্যামার দিয়ে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ট্রিস্টানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে আরও জানা গেছে, ট্রিস্টানের অটিজম ও এডিএইচডি থাকার কারণে তার মা সহায়তা খুঁজছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তিনি সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে।

রায় ঘোষণার সময় নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংস বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো আরও কঠোর করা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এআই ব্যবহার করে মাকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৩:১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়ে নিজের মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে এক কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছর বয়সী ট্রিস্টান রবার্ট গত বছরের অক্টোবর মাসে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে হত্যা করে। বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট-এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, ট্রিস্টানকে অন্তত ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় ট্রিস্টান ডিপসিক নামের একটি এআই সার্চ প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিয়েছিল। সে এআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিল, হত্যার জন্য হাতুড়ি নাকি ছুরি বেশি কার্যকর। প্রথমে এআই উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, পরে নিজেকে একজন অপরাধবিষয়ক লেখক পরিচয় দিলে ট্রিস্টানকে হাতুড়ি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা এবং হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস আদালতে বলেন, হত্যাকাণ্ডটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ছিল। ট্রিস্টান প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেন এবং পুরো ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার অডিও একটি ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ট্রিস্টান অনলাইনে একাধিকবার নারীবিদ্বেষী পোস্ট করেছিল এবং নিজের মানসিক সমস্যার জন্য মাকেই দায়ী করত। ঘটনার রাতে প্রথমে নিজ বাড়িতেই তার মায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। রাত প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্যাতনের পর চিকিৎসার কথা বলে মাকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে গিয়ে স্লেজহ্যামার দিয়ে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে ট্রিস্টানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে আরও জানা গেছে, ট্রিস্টানের অটিজম ও এডিএইচডি থাকার কারণে তার মা সহায়তা খুঁজছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে তিনি সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে।

রায় ঘোষণার সময় নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহিংস বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে এআই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা কাঠামো আরও কঠোর করা জরুরি।