ঢাকায় বৈশাখী শোভাযাত্রায় নতুন বছরকে বরণ
- আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে এ শোভাযাত্রার সূচনা হয়।
দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক এই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে হাজারো কণ্ঠ মিলিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
শোভাযাত্রার শুরুতে ছিল জাতীয় পতাকা। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল রঙিন মুখোশ, প্রতীকী মোটিফ, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপন এবং লোকজ সংস্কৃতির বহুমাত্রিক অনুষঙ্গ। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা এবং সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়।
বিশেষভাবে পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ শোভাযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে, যা দেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটায়। শোভাযাত্রাকে ঘিরে চারুকলা এলাকা ও আশপাশে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখী শোভাযাত্রা বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে নতুন বছরকে বরণ করা হয় আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে।
এর আগে ভোরে সূর্যোদয়ের পর ছায়ানট-এর আয়োজনে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষবরণের প্রভাতি অনুষ্ঠান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় এ আয়োজন। প্রায় ২০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে এবারের মূল ভাবনা ছিল ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। এছাড়া রবীন্দ্র সরোবর এলাকাতেও গানে গানে নতুন বছরকে স্বাগত জানান রাজধানীবাসী।




















