ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ও লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রামে অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি ও হামলা, ব্যবসায়ী আহত বর্তমান মজুত জ্বালানি ১২ বছর পর্যন্ত গ্যাস চাহিদা মেটাতে পারবে: জ্বালানি মন্ত্রী সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়ে ১৯৬ কোটি ডলার কালীগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধ: মাস না পেরোতেই ধস ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গুঞ্জন, নিরাপত্তা জোরদার মাদারীপুরে এসএসসি প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজধানীর মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

রায়পুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

রায়পুর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং নিজের খেয়ালখুশিমতো কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দপ্তরের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ৩৬টি ওয়াশব্লকের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারদের সঙ্গে বিলের অর্থ ভাগাভাগি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টুইন পিট ল্যাট্রিন, আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, গভীর নলকূপসহ একাধিক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গত দুই বছর ধরে নলকূপ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে জনগণ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক প্রকল্পই এখন কার্যত অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেরোয়া ইউনিয়নের সমাজসেবক শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অনেক নলকূপ স্থাপন করা হয়নি এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাজ পরিচালনা করছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দপ্তরের অন্যান্য কর্মচারীরাও এ অনিয়মের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া বহু ওয়াশব্লক প্রকল্প এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে আবেদন করলে তথ্য দেওয়া হবে, অন্যথায় সম্ভব নয়।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার জানান, প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমন্বয় পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে রায়পুর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রায়পুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

রায়পুর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং নিজের খেয়ালখুশিমতো কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দপ্তরের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ৩৬টি ওয়াশব্লকের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদারদের সঙ্গে বিলের অর্থ ভাগাভাগি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টুইন পিট ল্যাট্রিন, আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, গভীর নলকূপসহ একাধিক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গত দুই বছর ধরে নলকূপ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে জনগণ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক প্রকল্পই এখন কার্যত অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেরোয়া ইউনিয়নের সমাজসেবক শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অনেক নলকূপ স্থাপন করা হয়নি এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাজ পরিচালনা করছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দপ্তরের অন্যান্য কর্মচারীরাও এ অনিয়মের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া বহু ওয়াশব্লক প্রকল্প এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে আবেদন করলে তথ্য দেওয়া হবে, অন্যথায় সম্ভব নয়।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার জানান, প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমন্বয় পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে রায়পুর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।