ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ও লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রামে অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি ও হামলা, ব্যবসায়ী আহত বর্তমান মজুত জ্বালানি ১২ বছর পর্যন্ত গ্যাস চাহিদা মেটাতে পারবে: জ্বালানি মন্ত্রী সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়ে ১৯৬ কোটি ডলার কালীগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধ: মাস না পেরোতেই ধস ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গুঞ্জন, নিরাপত্তা জোরদার মাদারীপুরে এসএসসি প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজধানীর মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

সাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার দুই লাখ জেলে

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে টানা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন না। এর আগে গত ১ মার্চ থেকে মেঘনা নদী ও তেতুলিয়া নদী-তেও মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, যা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

প্রতি বছরের মতো এবারও মাছের নিরাপদ প্রজনন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে সরকার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে এর প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় জনপদে, বিশেষ করে ভোলা জেলায়। সেখানে প্রায় দুই লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন জেলের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি বিপুলসংখ্যক জেলে এখনো কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার মিয়া জানান, নদী ও সাগরে আগের মতো পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যায় না। ফলে অধিকাংশ জেলে ঋণের বোঝা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তার ওপর দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, পরিবার নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি সকল জেলেকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানান।

নাছির মাঝি মাছঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আহসান কবির লিটন বলেন, এই নিষেধাজ্ঞায় শুধু জেলেরা নয়, মাছ সংশ্লিষ্ট হাজারো ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের জন্যও সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জেলার সব জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন দুই মাস ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সরকারের এই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার দুই লাখ জেলে

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে টানা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন না। এর আগে গত ১ মার্চ থেকে মেঘনা নদী ও তেতুলিয়া নদী-তেও মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, যা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

প্রতি বছরের মতো এবারও মাছের নিরাপদ প্রজনন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে সরকার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে এর প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় জনপদে, বিশেষ করে ভোলা জেলায়। সেখানে প্রায় দুই লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন জেলের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাকি বিপুলসংখ্যক জেলে এখনো কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার মিয়া জানান, নদী ও সাগরে আগের মতো পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যায় না। ফলে অধিকাংশ জেলে ঋণের বোঝা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তার ওপর দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, পরিবার নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি সকল জেলেকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানান।

নাছির মাঝি মাছঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আহসান কবির লিটন বলেন, এই নিষেধাজ্ঞায় শুধু জেলেরা নয়, মাছ সংশ্লিষ্ট হাজারো ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের জন্যও সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জেলার সব জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন দুই মাস ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সরকারের এই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হবে।