ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ও লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রামে অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি ও হামলা, ব্যবসায়ী আহত বর্তমান মজুত জ্বালানি ১২ বছর পর্যন্ত গ্যাস চাহিদা মেটাতে পারবে: জ্বালানি মন্ত্রী সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়ে ১৯৬ কোটি ডলার কালীগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধ: মাস না পেরোতেই ধস ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গুঞ্জন, নিরাপত্তা জোরদার মাদারীপুরে এসএসসি প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজধানীর মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

স্বামীর লাশ গুম করতে কবর খুঁড়েছিলেন স্ত্রী, ঢালাই দিতে মজুদ ছিল বালু-সিমেন্ট

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫ ১২১ বার পড়া হয়েছে

দুধের সঙ্গে মেশানো হয় ঘুমের ওষুধ। লাশ গুম করতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে তৈরি করা হয় গর্ত। গর্তে ঢালাই দিতে মজুদ রাখা হয় সিমেন্ট-বালু। নিজের স্বামীকে মারতে এমনই মৃত্যুফাঁদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে লাবণী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের মুন্সি গ্রামে ঘটে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ও স্বামীর টাকা আত্মসাৎ করতে এমন কৌশল গ্রহণ করে ওই নারী ও তার পরিবারের লোকজন।

ভুক্তভোগী স্বামীর নাম ঠান্ডু বেপারী (৩৫) । তিনি সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের মিয়াচান বেপারীর ছেলে। ঢাকায় একটি ওয়ার্কশপ ব্যবসা পরিচালনা করেন ঠান্ডু বেপারী।

ঠান্ডুর পরিবারের দাবি, স্ত্রীর পরিবারকে ১১ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন ঠান্ডু বেপারী। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে পাওনা টাকা চাওয়ার জন্য যান তিনি। সন্ধ্যার দিকে কৌশলে তাকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ পান করান স্ত্রী লাবণী আক্তার (২৮), শাশুড়ি শহিদা বেগম ও দাদি শাশুড়ি জনকী বেগম। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে তাকে হত্যার উদ্দেশে শোয়ার ঘর থেকে গর্ত খোঁড়া ঘরে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। এ সময় তার ঘুম ভেঙে যায়। এতে তার হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করতে গেলে ঠান্ডুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে রেখে বউ-শাশুড়িরা পালিয়ে যায়। পরে আরও লোকজন জড়ো হয়ে ঠান্ডু বেপারীকে উদ্ধার করে।

ঠান্ডুর চাচা রমযান আলীর ভাষ্য, শ্বশুরবাড়ির পাশে জমি কেনার জন্য বায়না করেন ভাতিজা ঠান্ডু। এ নিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে জমা দেন তিনি। গতকাল রাতে ঢাকা থেকে আরও প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন ঠান্ডু। তার ইচ্ছে ছিল শ্বশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে বসত শুরু করবেন। মূলত ওই টাকা আত্মসাতের জন্য কৌশলে হত্যা করতে চেয়েছিল তারা। এছাড়া আগে থেকেই ঠান্ডুর সঙ্গে জমিজমা কেনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকদেব রায়। তিনি বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বামীর লাশ গুম করতে কবর খুঁড়েছিলেন স্ত্রী, ঢালাই দিতে মজুদ ছিল বালু-সিমেন্ট

আপডেট সময় : ১১:৩০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

দুধের সঙ্গে মেশানো হয় ঘুমের ওষুধ। লাশ গুম করতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে তৈরি করা হয় গর্ত। গর্তে ঢালাই দিতে মজুদ রাখা হয় সিমেন্ট-বালু। নিজের স্বামীকে মারতে এমনই মৃত্যুফাঁদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে লাবণী আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের মুন্সি গ্রামে ঘটে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ও স্বামীর টাকা আত্মসাৎ করতে এমন কৌশল গ্রহণ করে ওই নারী ও তার পরিবারের লোকজন।

ভুক্তভোগী স্বামীর নাম ঠান্ডু বেপারী (৩৫) । তিনি সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের মিয়াচান বেপারীর ছেলে। ঢাকায় একটি ওয়ার্কশপ ব্যবসা পরিচালনা করেন ঠান্ডু বেপারী।

ঠান্ডুর পরিবারের দাবি, স্ত্রীর পরিবারকে ১১ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন ঠান্ডু বেপারী। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে পাওনা টাকা চাওয়ার জন্য যান তিনি। সন্ধ্যার দিকে কৌশলে তাকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ পান করান স্ত্রী লাবণী আক্তার (২৮), শাশুড়ি শহিদা বেগম ও দাদি শাশুড়ি জনকী বেগম। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে তাকে হত্যার উদ্দেশে শোয়ার ঘর থেকে গর্ত খোঁড়া ঘরে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। এ সময় তার ঘুম ভেঙে যায়। এতে তার হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করতে গেলে ঠান্ডুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে রেখে বউ-শাশুড়িরা পালিয়ে যায়। পরে আরও লোকজন জড়ো হয়ে ঠান্ডু বেপারীকে উদ্ধার করে।

ঠান্ডুর চাচা রমযান আলীর ভাষ্য, শ্বশুরবাড়ির পাশে জমি কেনার জন্য বায়না করেন ভাতিজা ঠান্ডু। এ নিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে জমা দেন তিনি। গতকাল রাতে ঢাকা থেকে আরও প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন ঠান্ডু। তার ইচ্ছে ছিল শ্বশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে বসত শুরু করবেন। মূলত ওই টাকা আত্মসাতের জন্য কৌশলে হত্যা করতে চেয়েছিল তারা। এছাড়া আগে থেকেই ঠান্ডুর সঙ্গে জমিজমা কেনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকদেব রায়। তিনি বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।