ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ও লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রামে অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি ও হামলা, ব্যবসায়ী আহত বর্তমান মজুত জ্বালানি ১২ বছর পর্যন্ত গ্যাস চাহিদা মেটাতে পারবে: জ্বালানি মন্ত্রী সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়ে ১৯৬ কোটি ডলার কালীগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধ: মাস না পেরোতেই ধস ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গুঞ্জন, নিরাপত্তা জোরদার মাদারীপুরে এসএসসি প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজধানীর মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

ঘোড়ার ডিম ফুটে খচ্চর বের হয়েছে, সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায়-সম্পর্কিত সুপারিশ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘ছিল ঘোড়ার ডিম, এখন ওখান থেকে বের হয়েছে খচ্চরের বাচ্চা।’ সম্প্রতি নিজের ইউটিউবে দেওয়া ভিডিওতে তিনি একথা বলেন।

মাসুদ কামাল বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যমত কমিশন বা সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেছিলাম যে এটা একটা আস্ত অশ্বডিম্ব হতে চলেছে। মানে এটা ঘোড়ার ডিমের পরিণতি পাবে। আজকে বলছি সেই ঘোড়ার ডিম আসলে ফুটেছে, কিন্তু আনফরচুনেটলি সেই ঘোড়ার ডিমের ভেতর থেকে ঘোড়া বের হয়নি, বের হয়েছে একটি খচ্চর।’ মাসুদ কামাল বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে পেশ করেছে। সরকার মানে ড. ইউনূসের কাছে পেশ করেছে। এটা বাস্তবায়ন কিভাবে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য কী করতে হবে সেটা তারা সরকারকে বলেছে।

সরকার একটা ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ জারি করবেন। তারপর সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন, রাষ্ট্রপতি সেটা সিগনেচার করবে, তখন সেটা অধ্যাদেশ আকারে কার্যকর হবে। তারপর নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে চিহ্নিত হবেন এবং তাদের একটা সাংগঠনিক ক্ষমতা দেওয়া হবে। সেই ক্ষমতা দিয়ে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন।”

তিনি বলেন, ‘যারা এমপি নির্বাচিত হবেন, তাদের নতুন নাম হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু একটা কথা আছে যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ কিন্তু নিজেদের মতো করে কিছু পরিবর্তন করতে পারবেন না। জুলাই সনদে যেটা দেওয়া আছে, সেটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বাইরে আর কিছু করতে পারবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাই আমি হাসছি। আমি হাসতেছি এই কারণে যে এদের ছেলে মানুষে কাণ্ড কারখানা দেখে হাসি থামাতে পারছি না আমি। কতগুলো এনজিওর প্রতিনিধি, এই বদিউল আলম মজুমদার এনজিও করে ভাই, এই ড. আলী রীয়াজ আমেরিকার একটা ইউনিভার্সিটির টিচার, মনির হায়দার বাংলাদেশের সাংবাদিক ছিল আমেরিকায় চলে গেছে। এই লোকগুলো মিলে একটা নিয়ম কানুন করবে, সেটা মানবে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা! জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে দেশ পরিচালনার জন্য, এদের এই করে দেওয়া কাজের বাইরে তারা যেতে পারবেন না!’

কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশে মাসুদ কামাল বলেন, ‘তোমরা যাও, ইলেকশনে পাস করে আসো। এই যাদের নাম বললাম, এরা বাংলাদেশের যেকোনো একটা আসন থেকে যদি নির্বাচন করে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত না হয় তাহলে আপনি আমাকে বইলেন।’

মাসুদ কামাল আরো বলেন, ‘যেসব ব্যক্তির জনগণের কাছ থেকে জামানত রক্ষা করার ক্ষমতা নেই, তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এটাই তোমাকে পালন করতে হবে, এটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা কাদের বলছে? যারা জনগণের প্রতিনিধি তাদের। ঔদ্ধত্যের তো একটা সীমা আছে! এজন্য আমি বলেছি, ছিল ঘোড়ার ডিম এখন ওখান থেকে বের হয়েছে একটা খচ্চরের বাচ্চা।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঘোড়ার ডিম ফুটে খচ্চর বের হয়েছে, সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল

আপডেট সময় : ০২:০৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায়-সম্পর্কিত সুপারিশ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘ছিল ঘোড়ার ডিম, এখন ওখান থেকে বের হয়েছে খচ্চরের বাচ্চা।’ সম্প্রতি নিজের ইউটিউবে দেওয়া ভিডিওতে তিনি একথা বলেন।

মাসুদ কামাল বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যমত কমিশন বা সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেছিলাম যে এটা একটা আস্ত অশ্বডিম্ব হতে চলেছে। মানে এটা ঘোড়ার ডিমের পরিণতি পাবে। আজকে বলছি সেই ঘোড়ার ডিম আসলে ফুটেছে, কিন্তু আনফরচুনেটলি সেই ঘোড়ার ডিমের ভেতর থেকে ঘোড়া বের হয়নি, বের হয়েছে একটি খচ্চর।’ মাসুদ কামাল বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে পেশ করেছে। সরকার মানে ড. ইউনূসের কাছে পেশ করেছে। এটা বাস্তবায়ন কিভাবে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য কী করতে হবে সেটা তারা সরকারকে বলেছে।

সরকার একটা ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ জারি করবেন। তারপর সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন, রাষ্ট্রপতি সেটা সিগনেচার করবে, তখন সেটা অধ্যাদেশ আকারে কার্যকর হবে। তারপর নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে চিহ্নিত হবেন এবং তাদের একটা সাংগঠনিক ক্ষমতা দেওয়া হবে। সেই ক্ষমতা দিয়ে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন।”

তিনি বলেন, ‘যারা এমপি নির্বাচিত হবেন, তাদের নতুন নাম হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু একটা কথা আছে যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ কিন্তু নিজেদের মতো করে কিছু পরিবর্তন করতে পারবেন না। জুলাই সনদে যেটা দেওয়া আছে, সেটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বাইরে আর কিছু করতে পারবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাই আমি হাসছি। আমি হাসতেছি এই কারণে যে এদের ছেলে মানুষে কাণ্ড কারখানা দেখে হাসি থামাতে পারছি না আমি। কতগুলো এনজিওর প্রতিনিধি, এই বদিউল আলম মজুমদার এনজিও করে ভাই, এই ড. আলী রীয়াজ আমেরিকার একটা ইউনিভার্সিটির টিচার, মনির হায়দার বাংলাদেশের সাংবাদিক ছিল আমেরিকায় চলে গেছে। এই লোকগুলো মিলে একটা নিয়ম কানুন করবে, সেটা মানবে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা! জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে দেশ পরিচালনার জন্য, এদের এই করে দেওয়া কাজের বাইরে তারা যেতে পারবেন না!’

কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশে মাসুদ কামাল বলেন, ‘তোমরা যাও, ইলেকশনে পাস করে আসো। এই যাদের নাম বললাম, এরা বাংলাদেশের যেকোনো একটা আসন থেকে যদি নির্বাচন করে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত না হয় তাহলে আপনি আমাকে বইলেন।’

মাসুদ কামাল আরো বলেন, ‘যেসব ব্যক্তির জনগণের কাছ থেকে জামানত রক্ষা করার ক্ষমতা নেই, তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এটাই তোমাকে পালন করতে হবে, এটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা কাদের বলছে? যারা জনগণের প্রতিনিধি তাদের। ঔদ্ধত্যের তো একটা সীমা আছে! এজন্য আমি বলেছি, ছিল ঘোড়ার ডিম এখন ওখান থেকে বের হয়েছে একটা খচ্চরের বাচ্চা।’