বিএনপি ভোটবর্জনের ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট প্রচার শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে। ভোটের আগের দিন রাতেও এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধ হয়নি।
বুধবার রাত থেকে একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যার দাবি ছিল বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছে। মূলত রাতের ওই ফটোকার্ডটি বিএনপির জরুরি সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে তৈরি করা হয়। ফটোকার্ডে যমুনা টিভির লোগো ও নকশা ব্যবহার করে লেখা ছিল, “নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত; জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি।” পোস্টের ক্যাপশনে আরও উল্লেখ ছিল, “মধ্যরাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি।”
ফটোকার্ডটি দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। বুধবার সকালে পোস্টটিতে প্রায় ৩,২০০টি প্রতিক্রিয়া, ১০০টি মন্তব্য এবং ৮০টি শেয়ার দেখা যায়। তবে যাচাই করে দেখা যায়, যমুনা টেলিভিশন এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। তাদের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভোটবর্জন সংক্রান্ত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনের প্রকৃত তথ্য অনুসারে, নজরুল ইসলাম খান কোনো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেননি। তিনি কেবল দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার, কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং ফলাফল না আসা পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়ার আহ্বান জানান।
ভুয়া ফটোকার্ডটি ছড়ানোর উৎস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এটি ‘Dhaka Expose’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে। পেজটির নজরদারিতে দেখা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিয়ে একাধিক ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ছড়ানো হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালেও বিএনপি নেতারা ভোট দিতে দেখা গেছে। ঢাকার গুলশান মডেল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আজকে তাদের অধিকার প্রয়োগ করবেন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ ভোট দিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সক্ষম।”
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ—রাজনীতি কোন দিকে যাবে। বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হলো।”




















