ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ও লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রামে অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি ও হামলা, ব্যবসায়ী আহত বর্তমান মজুত জ্বালানি ১২ বছর পর্যন্ত গ্যাস চাহিদা মেটাতে পারবে: জ্বালানি মন্ত্রী সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়ে ১৯৬ কোটি ডলার কালীগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধ: মাস না পেরোতেই ধস ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গুঞ্জন, নিরাপত্তা জোরদার মাদারীপুরে এসএসসি প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজধানীর মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

‘বিদায়, বেইলি রোড’—স্মৃতিময় সময়ের কথা জানালেন শফিকুল আলম

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর বেইলি রোডে কাটানো সময়ের স্মৃতি মনে করে জায়গাটিকে বিদায় জানিয়েছেন শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। তুমি আমার জীবনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সাক্ষী হয়ে আছো। বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতাম আমি। যদিও তখন সেখানে কোনো মন্ত্রীরা থাকতেন না। ওই ভবনে থাকতেন কেবল বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনাররা। চারপাশটা খুবই শান্ত ও স্থির মনে হতো। সেখানে সকালটা শুরু হতো পাখিদের কিচিরমিচিরে। আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা।’

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর শাহীনবাগের নিজ বাসা ছেড়ে বেইলি রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসের মূল কারণ ছিল ‘যমুনা’র কাছাকাছি থাকা। কারণ, সেখানে অবস্থান করতেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের অধিকাংশ সময় তিনি সেখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন।

শফিকুল আলম লেখেন, অনেক সময় এমন হয়েছে যে তাঁকে রাতের খাবার ফেলে রেখে দ্রুত ‘যমুনা’য় ছুটে যেতে হয়েছে—সংকট ব্যবস্থাপনা কাছ থেকে দেখার জন্য এবং সেই প্রচেষ্টার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য।

তিনি আরও বলেন, তাঁর বেইলি রোডের ফ্ল্যাট থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমি। সেখানে তিনি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়েছেন। শান্ত পরিবেশের সেই জায়গাটি অনেক সময়ই উত্তাল বিক্ষোভে ভেঙে পড়ত। তখন মনে হতো যেন পরিস্থিতি সবার জন্যই সংকটময় হয়ে উঠেছে, কিন্তু পরে আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যেত।

স্ট্যাটাসে তিনি ব্যক্তিগত আক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত তেরো মাসে তিনি রমনা পার্ক-এ পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি। অন্যদের মতো সকালে হাঁটাহাঁটি করা বা আড্ডায় যোগ দেওয়ার সুযোগও খুব কম পেয়েছেন। তবে তিনি ও তাঁর স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার ধারে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন। যদিও সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই ছোট ছোট দোকানগুলো সরিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

পোস্টের শেষ অংশে শফিকুল আলম লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। তুমি উপর থেকে শান্ত ছিলে। কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিলে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-এর বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান শফিকুল আলম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘বিদায়, বেইলি রোড’—স্মৃতিময় সময়ের কথা জানালেন শফিকুল আলম

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর বেইলি রোডে কাটানো সময়ের স্মৃতি মনে করে জায়গাটিকে বিদায় জানিয়েছেন শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। তুমি আমার জীবনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সাক্ষী হয়ে আছো। বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতাম আমি। যদিও তখন সেখানে কোনো মন্ত্রীরা থাকতেন না। ওই ভবনে থাকতেন কেবল বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনাররা। চারপাশটা খুবই শান্ত ও স্থির মনে হতো। সেখানে সকালটা শুরু হতো পাখিদের কিচিরমিচিরে। আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা।’

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর শাহীনবাগের নিজ বাসা ছেড়ে বেইলি রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসের মূল কারণ ছিল ‘যমুনা’র কাছাকাছি থাকা। কারণ, সেখানে অবস্থান করতেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের অধিকাংশ সময় তিনি সেখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন।

শফিকুল আলম লেখেন, অনেক সময় এমন হয়েছে যে তাঁকে রাতের খাবার ফেলে রেখে দ্রুত ‘যমুনা’য় ছুটে যেতে হয়েছে—সংকট ব্যবস্থাপনা কাছ থেকে দেখার জন্য এবং সেই প্রচেষ্টার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য।

তিনি আরও বলেন, তাঁর বেইলি রোডের ফ্ল্যাট থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমি। সেখানে তিনি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়েছেন। শান্ত পরিবেশের সেই জায়গাটি অনেক সময়ই উত্তাল বিক্ষোভে ভেঙে পড়ত। তখন মনে হতো যেন পরিস্থিতি সবার জন্যই সংকটময় হয়ে উঠেছে, কিন্তু পরে আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যেত।

স্ট্যাটাসে তিনি ব্যক্তিগত আক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত তেরো মাসে তিনি রমনা পার্ক-এ পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি। অন্যদের মতো সকালে হাঁটাহাঁটি করা বা আড্ডায় যোগ দেওয়ার সুযোগও খুব কম পেয়েছেন। তবে তিনি ও তাঁর স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার ধারে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন। যদিও সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই ছোট ছোট দোকানগুলো সরিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

পোস্টের শেষ অংশে শফিকুল আলম লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। তুমি উপর থেকে শান্ত ছিলে। কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিলে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-এর বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান শফিকুল আলম।