ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

স্ত্রীর চিত্রকর্ম নিয়ে রাজনৈতিক তোপের মুখে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলা পত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

নিজের স্ত্রীর আঁকা একটি পুরনো চিত্রকর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জটিলতায় পড়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তার স্ত্রী রামা দুওয়াজির একটি কাজ ফিলিস্তিনি লেখক সুসান আবুলহাওয়ার রচনার সঙ্গে সংযুক্ত—এমন দাবি ওঠার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

বিতর্কের মূলে যা আছে

কট্টর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন’ গত সপ্তাহে প্রথম এই খবরটি সামনে আনে। তারা জানায়, ২৮ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স চিত্রকর দুওয়াজি লেখক আবুলহাওয়ার সংকলিত একটি রচনার জন্য অলংকরণ করেছিলেন। ‘এভরি মোমেন্ট ইজ আ লাইফ’ শিরোনামে গাজার লেখকদের সেই সংকলনে ‘এ ট্রেইল অব সোপ’ নামের একটি ছোটগল্পের জন্য চিত্রকর্মটি তৈরি করা হয়েছিল।

আবুলহাওয়া জানিয়েছেন, লেখাটি গাজার একজন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দার কষ্টের গল্প। তবে বিতর্কটি মূলত আবুলহাওয়ার পুরনো কিছু সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নিয়ে, যাকে ইহুদি-বিদ্বেষী হিসেবে দাবি করছে একটি পক্ষ।

মামদানির অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

মেয়র জোহরান মামদানি এক সংবাদ সম্মেলনে আবুলহাওয়ার বিতর্কিত মন্তব্যগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, তার স্ত্রী একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছিলেন এবং লেখকের সাথে তার কখনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা দেখা হয়নি। মামদানি বলেন, “আমাদের প্রশাসন সব ধরনের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।”

সমালোচনার মুখে মেয়র

তবে আবুলহাওয়ার মন্তব্যের বিরুদ্ধে মামদানির এই কড়া অবস্থান তার নিজ সমর্থকদের অনেককেই ক্ষুব্ধ করেছে। অনেক ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মনে করছেন, মেয়র সমালোচকদের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। কর্মী শায়েল বেন-ইফ্রাইম বলেছেন, “ব্যাখ্যা বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ প্রতিপক্ষ কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হবে না।”

অন্যদিকে লেখক আবুলহাওয়া মেয়রের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি এমন শক্তির কাছে মাথা নত করলেন যারা আপনাকে ও আপনার স্ত্রীকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে চায়।”

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আক্রমণ

উল্লেখ্য যে, জোহরান মামদানি নিজেও দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়ে আসছেন। রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল সম্প্রতি মামদানির ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছেন। ইফতারের ছবির পাশে ৯/১১ হামলার ছবি দিয়ে টিউবারভিল এক্সে লিখেছেন, “শত্রু এখন ভেতরে ঢুকে গেছে।” এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্বেষের বিপরীতে সিনেটরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্ত্রীর চিত্রকর্ম নিয়ে রাজনৈতিক তোপের মুখে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

আপডেট সময় : ১১:৪৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

নিজের স্ত্রীর আঁকা একটি পুরনো চিত্রকর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জটিলতায় পড়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তার স্ত্রী রামা দুওয়াজির একটি কাজ ফিলিস্তিনি লেখক সুসান আবুলহাওয়ার রচনার সঙ্গে সংযুক্ত—এমন দাবি ওঠার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

বিতর্কের মূলে যা আছে

কট্টর ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন’ গত সপ্তাহে প্রথম এই খবরটি সামনে আনে। তারা জানায়, ২৮ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স চিত্রকর দুওয়াজি লেখক আবুলহাওয়ার সংকলিত একটি রচনার জন্য অলংকরণ করেছিলেন। ‘এভরি মোমেন্ট ইজ আ লাইফ’ শিরোনামে গাজার লেখকদের সেই সংকলনে ‘এ ট্রেইল অব সোপ’ নামের একটি ছোটগল্পের জন্য চিত্রকর্মটি তৈরি করা হয়েছিল।

আবুলহাওয়া জানিয়েছেন, লেখাটি গাজার একজন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দার কষ্টের গল্প। তবে বিতর্কটি মূলত আবুলহাওয়ার পুরনো কিছু সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নিয়ে, যাকে ইহুদি-বিদ্বেষী হিসেবে দাবি করছে একটি পক্ষ।

মামদানির অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

মেয়র জোহরান মামদানি এক সংবাদ সম্মেলনে আবুলহাওয়ার বিতর্কিত মন্তব্যগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, তার স্ত্রী একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছিলেন এবং লেখকের সাথে তার কখনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা দেখা হয়নি। মামদানি বলেন, “আমাদের প্রশাসন সব ধরনের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।”

সমালোচনার মুখে মেয়র

তবে আবুলহাওয়ার মন্তব্যের বিরুদ্ধে মামদানির এই কড়া অবস্থান তার নিজ সমর্থকদের অনেককেই ক্ষুব্ধ করেছে। অনেক ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মনে করছেন, মেয়র সমালোচকদের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। কর্মী শায়েল বেন-ইফ্রাইম বলেছেন, “ব্যাখ্যা বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ প্রতিপক্ষ কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হবে না।”

অন্যদিকে লেখক আবুলহাওয়া মেয়রের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনি এমন শক্তির কাছে মাথা নত করলেন যারা আপনাকে ও আপনার স্ত্রীকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে চায়।”

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আক্রমণ

উল্লেখ্য যে, জোহরান মামদানি নিজেও দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়ে আসছেন। রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল সম্প্রতি মামদানির ধর্মবিশ্বাস নিয়ে আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছেন। ইফতারের ছবির পাশে ৯/১১ হামলার ছবি দিয়ে টিউবারভিল এক্সে লিখেছেন, “শত্রু এখন ভেতরে ঢুকে গেছে।” এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্বেষের বিপরীতে সিনেটরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।