ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের আইন পাসে ইসরায়েলের সমালোচনা
- আপডেট সময় : ১১:১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
ফিলিস্তিনিদের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কনেসেট। সোমবার পাস হওয়া এই আইনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন এই আইনে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য পৃথক দুটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে অধিকৃত পশ্চিম তীর-এ বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে সামরিক আদালতে বিচার হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যত পূর্বনির্ধারিত শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি অধিকারবিষয়ক আইনি সংস্থা আদালাহ-এর লিগ্যাল ডিরেক্টর সুহাদ বিশারা এক বিবৃতিতে বলেন, এই আইন রাষ্ট্র-সমর্থিত ‘ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকে’ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। তার ভাষায়, এটি পরিকল্পিতভাবে শুধু ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং সমতা ও বৈষম্যবিরোধী মৌলিক নীতির লঙ্ঘন করছে।
একইসঙ্গে ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল জানিয়েছে, এই আইনের বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে। সংগঠনটির দাবি, পশ্চিম তীরের জন্য আইন প্রণয়নের এখতিয়ার কনেসেট-এর নেই, কারণ অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচিত এবং সেখানে ইসরায়েলের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব নেই।
সমালোচকদের মতে, আইনটি মানবাধিকার, মানব মর্যাদা, ন্যায্য বিচার এবং সমতার অধিকারের পরিপন্থী—যা ইসরায়েলের মৌলিক আইনেই সুরক্ষিত। এছাড়া এতে গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখার বিধান থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল কঠোর শাস্তিমূলক আইন নয়, বরং অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত বহন করে। অনেকেই এটিকে অঞ্চলটি কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার (ডি ফ্যাক্টো সংযুক্তিকরণ) প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ (১৯৬৭)-এর পর জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অঞ্চলটি এখনো অধিকৃত হিসেবেই বিবেচিত, যেখানে দখলদার শক্তির নিজস্ব আইন প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক বিদ্যমান।


























