প্রীতি ম্যাচ ইস্যুতে মামলায় জড়ালেন মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা
- আপডেট সময় : ১০:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতায় পড়েছেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি আদালতে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেছে মায়ামিভিত্তিক একটি আয়োজন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘ভিআইডি’। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন গণমাধ্যম টিএমজেড এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে ভেনেজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচ ঘিরেই এই বিরোধের সূত্রপাত। ‘ভিআইডি’ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৭০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ম্যাচ দুটির একক স্বত্ব কিনে নেয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো চোট না থাকলে মেসিকে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে থাকার কথা ছিল।
তবে আয়োজকদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে মেসি মাঠে নামেননি; বরং গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন। এমনকি হার্ড রক স্টেডিয়াম-এ তার পরিবারের জন্য বিশেষ কক্ষ বরাদ্দের খরচও বহন করে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে যখন পরদিনই মেসি তার ক্লাব ইন্টার মায়ামি-এর হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেড-এর বিপক্ষে মাঠে নেমে জোড়া গোল করেন।
আয়োজকদের দাবি, এতে প্রমাণ হয় যে মেসি খেলার মতো শারীরিকভাবে সক্ষম ছিলেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রীতি ম্যাচটি এড়িয়ে গেছেন, যা সরাসরি চুক্তি ভঙ্গের শামিল। এছাড়া পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। ম্যাচটি শিকাগোর সোলজার ফিল্ড-এ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ফোর্ট লডারডেলের ডিআরভি পিএনকে স্টেডিয়াম-এ সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে দর্শক ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় আয়োজকদের দাবি, তারা ১০ লাখ ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখালেও শিকাগো কর্তৃপক্ষ বলছে, টিকিট বিক্রি কম হওয়াই ছিল মূল কারণ। ক্ষতি পুষিয়ে দিতে চীনে আরেকটি ম্যাচ আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হলেও ব্যস্ত সূচির কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন আইনি জটিলতা আর্জেন্টিনা দলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ফুটবল মহলে। তবে এখন পর্যন্ত মেসি বা আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

























