ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ও লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রামে অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি ও হামলা, ব্যবসায়ী আহত বর্তমান মজুত জ্বালানি ১২ বছর পর্যন্ত গ্যাস চাহিদা মেটাতে পারবে: জ্বালানি মন্ত্রী সাভার-আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়ে ১৯৬ কোটি ডলার কালীগঞ্জে আদি যমুনায় ৪০ লক্ষ টাকার তীর রক্ষা বাঁধ: মাস না পেরোতেই ধস ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গুঞ্জন, নিরাপত্তা জোরদার মাদারীপুরে এসএসসি প্রবেশপত্র না পেয়ে ২০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজধানীর মালিবাগে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলা পত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নৌ অবরোধ পরিকল্পনার ঘোষণার পর গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও থমকে গেছে। সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে সীমিত আকারে চলমান জাহাজ চলাচলও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ‘তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ’ হয়ে যায়। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা লয়েডস লিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুটি জাহাজ, যেগুলো প্রণালি পেরিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পথে ছিল, সেগুলোও ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, অবরোধ ঘোষণার আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি থেমে যায়নি। রোববার পর্যন্ত কম পরিসরে হলেও জাহাজ চলাচল অব্যাহত ছিল। এমনকি শনিবার কিছুটা জাহাজ চলাচল বেড়েছিল, কারণ শিপিং কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দ্রুত জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

তবে অবরোধ ঘোষণার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। লয়েডস লিস্ট বলছে, এখন কার্যত সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়-এর সামুদ্রিক আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার বলেন, নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ হতে পারে, তবে এর জন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, কোনও নিরপেক্ষ দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলা যাবে না এবং বেসামরিক জনগণের খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধ করা বাস্তবে জটিল, কারণ এটি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। একইসঙ্গে অবরোধ কার্যকর করতে হলে তা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে— অর্থাৎ ইরানে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরান-এর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ সীমিত করা। বিশেষ করে তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ পরিকল্পনা দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ

আপডেট সময় : ১০:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নৌ অবরোধ পরিকল্পনার ঘোষণার পর গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও থমকে গেছে। সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে সীমিত আকারে চলমান জাহাজ চলাচলও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে, এমনকি কিছু জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ‘তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ’ হয়ে যায়। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা লয়েডস লিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুটি জাহাজ, যেগুলো প্রণালি পেরিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পথে ছিল, সেগুলোও ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, অবরোধ ঘোষণার আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি থেমে যায়নি। রোববার পর্যন্ত কম পরিসরে হলেও জাহাজ চলাচল অব্যাহত ছিল। এমনকি শনিবার কিছুটা জাহাজ চলাচল বেড়েছিল, কারণ শিপিং কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দ্রুত জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

তবে অবরোধ ঘোষণার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। লয়েডস লিস্ট বলছে, এখন কার্যত সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়-এর সামুদ্রিক আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার বলেন, নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ হতে পারে, তবে এর জন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, কোনও নিরপেক্ষ দেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলা যাবে না এবং বেসামরিক জনগণের খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধ করা বাস্তবে জটিল, কারণ এটি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। একইসঙ্গে অবরোধ কার্যকর করতে হলে তা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে— অর্থাৎ ইরানে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরান-এর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ সীমিত করা। বিশেষ করে তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ পরিকল্পনা দেখা হচ্ছে।